বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পাশে পাকিস্তান: ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের চূড়ান্ত ঘোষণা
স্পোর্টস ডেস্ক, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬:
নিরাপত্তাশঙ্কার কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়ার প্রতিবাদে ভারতের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিল পাকিস্তান। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সাফ জানিয়েছেন, "খেলার মাঠে রাজনীতি চলবে না।" আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আগে বিশ্ব ক্রিকেটে এক বিশাল বিস্ফোরণ ঘটালেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। গত বুধবার ইসলামাবাদে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে কোনো ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান। মূলত টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়ার ঘটনায় সংহতি প্রকাশ করতেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামাবাদ।
কেন এই বয়কট?
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) নিরাপত্তাশঙ্কার কারণ দেখিয়ে ভারতে গিয়ে ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। বিসিবি প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশের ম্যাচগুলো যেন সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) সেই আবেদন নাকচ করে দিয়ে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কার করে এবং বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন,
“আমরা খুব ভেবেচিন্তে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাংলাদেশের নিরাপত্তাশঙ্কাকে গুরুত্ব না দিয়ে তাদের টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া মোটেও কাম্য নয়। আমরা পুরোপুরি বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খেলার মাঠে কোনো রাজনীতি থাকা উচিত নয়।”
আইসিসির দ্বিমুখী নীতি ও উত্তাল ক্রিকেট বিশ্ব:
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এর আগেই আইসিসির ‘দ্বিমুখী নীতি’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারত-পাকিস্তান মহারণ হওয়ার কথা ছিল। আইসিসি এই বয়কটের ফলে পাকিস্তানকে ‘দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব’-এর বিষয়ে সতর্ক করলেও পাকিস্তান সরকার তাদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হওয়া মানে আইসিসির বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া।
%20(1)~2.jpeg)