গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে সংবিধানে যেসব বড় পরিবর্তন আসছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি
ঢাকা | বিশেষ প্রতিনিধি
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দেশ। ওই দিন জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
এই গণভোটে ভোটাররা আলাদা ব্যালটে মাত্র একটি প্রশ্নে ভোট দেবেন—
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আপনি সম্মত কি না?
ভোটারদের সামনে থাকবে কেবল দুটি অপশন— ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’।
গণভোট ঘিরে সরকারি প্রচারণা
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সারাদেশে গণভোট নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। শুরুতে সরকার নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে গণভোট সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করলেও, পরবর্তীতে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় নামে।
সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রেডিও ও টেলিভিশনে প্রচারের জন্য দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন,
“হ্যাঁ ভোট দিলে দেশ বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে। এর মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে।”
কী এই জুলাই সনদ?
সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পর তৈরি হয় জুলাই সনদ। এই সনদে রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে মোট ৮৪টি প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী—
৪৭টি প্রস্তাব সরাসরি সাংবিধানিক সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত
৩৭টি প্রস্তাব সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য
‘হ্যাঁ’ জিতলে কী পরিবর্তন আসবে
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে আগামী জাতীয় সংসদ এই ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলো হলো—
সংবিধানে ক্ষমতার ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও শক্তিশালী কাঠামো গঠন
নির্বাচন ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংস্কার
বিচার বিভাগ ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি
বৈষম্য ও নিপীড়ন রোধে আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা জোরদার
তবে ব্যালটে আলাদা করে ৮৪টি প্রস্তাব উল্লেখ থাকবে না। একটি মাত্র প্রশ্নের উত্তরে ‘হ্যাঁ’ মানেই সব সংস্কারে সম্মতি।
রাজনৈতিক মতভেদ ও বিতর্ক
এই ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের কিছু কিছু বিষয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। শুরুতে প্রস্তাব ছিল—যেসব প্রস্তাবে কোনো দলের আপত্তি রয়েছে, সে দল ক্ষমতায় এলে সেগুলো বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে না।
কিন্তু এই বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় সরকার শেষ পর্যন্ত গণভোটের সিদ্ধান্ত নেয়।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,
👉 গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে—সব দল ও সরকার বাধ্য থাকবে জুলাই সনদের সব ধারা বাস্তবায়নে।
👉 আর যদি ‘না’ জয়ী হয়—তাহলে জুলাই সনদ পুরোপুরি বাতিল বলে গণ্য হবে।
জনগণের হাতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
এবারের গণভোটকে অনেকেই দেখছেন স্বাধীনতার পর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে। সরকার বলছে, এই গণভোটের মাধ্যমে জনগণই ঠিক করবে—দেশ কোন পথে এগোবে।
১২ ফেব্রুয়ারি তাই শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণের দিন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
%20(3).jpeg)

%20(1).jpeg)